আমলা নির্ভর সরকার দিয়ে করোনা মোকাবিলা সম্ভব নয়- সিপিবি

বর্তমান জনবান্ধবহীন সরকারকে আমলা নির্ভর অভিহিত করে সিপিবি নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন যে এরকম আমলা নির্ভর সরকার দিয়ে করোনা মোকাবিলা সম্ভব নয়।

অতিদ্রুত সবার জন্য করোনা ভ্যাকসিন, লকডাউনে খাদ্য সহায়তা এবং স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে রাজধানীর পুরানা পল্টনে মানববন্ধন-সমাবেশে সিপিবি নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন।

আজ (৩০ জুন) বুধবার দেশব্যাপী সিপিবি’র কর্মসূচি অংশ হিসেবে দুপুরে পুরানা পল্টন মোড়ে উক্ত মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম। বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সম্পাদক আহসান হাবিব লাবলু, রুহিন হোসেন প্রিন্স। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ কাফী রতন, শ্রমিক নেতা মাহবুব আলম প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী রুহুল আমিন।

সভাপতির বক্তৃতায় সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, গত বছর ৮ মার্চ প্রথম আমাদের দেশে করোনা রোগী ধরা পড়ে এবং ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। মানুষও প্রথম দিকে সে লকডাউন মেনে চলছিল। কিন্তু সরকার মানুষকে খাদ্য, চিকিৎসার নিরাপত্তা দিতে না পারার কারণে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের দায়িত্বহীনতা এই সংকটকে আরও তীব্রতর করছে। সরকারের যথাসময়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেয়ার কারণে আজ করোনা ভ্যাকসিনের সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার লকডাউন দিচ্ছে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য কিন্তু যারা দিন আনে দিন খায় গরিব মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। তাহলে কি লকডাউন সফল হবে? এই প্রশ্ন আজ দেশের মানুষের।

তিনি আরও বলেন, গ্রাম-শহরে রেশনিং ব্যবস্থা চালু থাকলে পঞ্চাশ ভাগ লকডাউন এমনিতেই সফল হয়ে যেত।

তিনি করোনা থেকে মানুষকে বাঁচাতে অবিলম্বে গণবণ্টন ব্যবস্থা চালুর দাবি করেন। যেসব দেশ করোনা মোকাবেলায় পাড়া-মহল্লায় মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছে তারাই সফল হয়েছে। সিপিবি বার বার দাবি জানানো সত্ত্বেও সরকার জনগণকে, রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে করোনা মোকাবেলার উদ্যোগ নেয় নাই।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার বাজেট ঘোষণা করেছে। কিন্তু অবকাঠামো, গবেষণা খাতে কোন বরাদ্দ নেই। অন্যখাতে যা বরাদ্দ হয়েছে তা লুটপাট হয়ে যাবে অতীতের ইতিহাস তাই বলে। জনগণকে শুধু স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে বললেই হবে না, তাদেরকে পর্যাপ্ত মাস্ক, হ্যান্ড স্যানেটাইজারও দিতে হবে। করোনার শুরু থেকে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ বা বহিষ্কার করা উচিত ছিল। কিন্তু এখনও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন।

নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে সবার জন্য পর্যাপ্ত করোনা ভ্যাকসিন প্রদান, লকডাউনে গরিব নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত মানুষের খাদ্যের নিশ্চয়তা দেয়ার দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.