আফ্রিকার জন্য ম্যালেরিয়ার টিকার অনুমোদন দিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রাণঘাতী ম্যালেরিয়ার টিকার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আফ্রিকায় এই টিকার পরীক্ষা হয়েছে। সাফল্যের হার ৩০ শতাংশ। তা সত্ত্বেও এই টিকা অনুমোদন করা হয়েছে। এই টিকার চারটি ডোজ নিতে হবে।

প্রায় এক শতাব্দীর চেষ্টার পর শিশুদের জন্য ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন পাওয়াকে চিকিৎসা খাতের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার টিকার অনুমোদনের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস বলেছেন, “এটি ঐতিহাসিক এক মূহুর্ত”।

“দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন বিজ্ঞান, শিশু স্বাস্থ্য ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি যুগান্তকারী সাফল্য। এটি প্রতিবছর লাখো শিশুর জীবন রক্ষা করবে,” বলেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ম্যালেরিয়াকে এখনো বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যাতে বেশি মারা যায় শিশু ও নবজাতকরা।

আফ্রিকায় প্রতি বছর চার লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় মারা যান। তার মধ্যেো বেশিরভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু। ২০১৯ সালে আফ্রিকায় করোনায় যত না মানুষ মারা গেছেন, তার থেকে বেশি ম্যালেরিয়ায় মারা গেছেন।

এই ভ্যাকসিনের নাম মসকুরিক্স। গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন(জিএসকে) ১৯৮৭ সালে এই ভ্যাকসিন তৈরি করে। বহু বছর ধরে পরীক্ষার পর এবার তা অনুমোদন করা হলো।

ঘানা, কেনিয়া, মালাউয়িতে ২০১৯ থেকে আট লাখ বাচ্চার উপর এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা হয়েছে।

ম্যালেরিয়া হলো মশাবাহিত রোগ। এতদিন পর্যন্ত মশা ঠেকানোর জন্য মানুষ মশারি ও মশা মারার স্প্রে ব্যবহার করত। পুরসভাও মশা মারার জন্য ড্রেনে তেল দিত ও স্প্রে করত। কিন্তু এবার ভ্যাকসিনও ব্যবহার করা যাবে।

তবে এই ভ্যাকসিন মাত্র ৩০ শতাংশ কার্যকর এবং এর চারটি ডোজ নিতে হবে। কারণ, এর সুরক্ষা কয়েক মাস পর্যন্ত থাকে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব বেশি হয় না। তবে জ্বর ও কনভালশন হতে পারে।

বিশ্বে একশরও বেশি ধরণের ম্যালেরিয়া আছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী কিন্তু আফ্রিকাতে বেশি দেখা যায়, এমন ধরণটির বিরুদ্ধেই নতুন টিকা কার্যকর।

তবে টিকাটি কার্যকর হতে চার ডোজ দরকার হওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।

এর মধ্যে প্রথম তিন ডোজ – পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম মাসে আর দেড় বছর বয়সে আরেকটি বুস্টার ডোজ।

ঔষধ প্রস্ততকারক কোম্পানি জিএসকে এটি প্রস্তুত করছে। তবে এটি আফ্রিকার বাইরে ম্যালেরিয়ার অন্য ধরণগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে না।

প্রতি বছর দেড় কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে জিএসকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.