আদিবাসী জমিতে ইপিজেড স্থাপন নয় –আদিবাসী ইউনিয়ন

আদিবাসীদের জমিতে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধ করে অন্যত্র খাস জমি উদ্ধার করে সেখানে ইকোনমিক জোন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন।

বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেবেকা সরেন ও সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত চন্দ্র মাহান্তো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ এক বিবৃতিতে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী আদি মালিকদের কাছে জমি ফিরিয়ে না দিয়ে জমি থেকে উচ্ছেদ এবং ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ মানবাধিকার লংঘন। বর্তমানে চুক্তির শর্ত না মেনে বাগদা ফার্মে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ চুক্তির বরখেলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ২০০৬ সালের ৬ নভেম্বর দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দ্বারা সাঁওতাল পল্লিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ নারী নির্যাতন করা হয় এবং আদিবাসী নেতা শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মট্রি, রমেশ টুটু কে হত্যা করে কিন্তু সাওতাল জনগোষ্ঠী ভুমি অধিকারের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলে তখন ভুমি দখলকারীরা পিছপা হটে যায় আবার নতুন করে ইপিজেডের নামে ভুমি দখল করা হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সমতলের আদিবাসীদের অস্তিত্ব হুমকির সন্মুখিন। স্বাধীন দেশে কোন এক জনগোষ্ঠীকে অবহেলা, নির্যাতন নিপীড়ন,ভুমির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অসাংবিধানিক। আদিবাসীদের ভূমি, ভাষা, সংস্কুতি, কৃস্টি ঐতিহ্য রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। ইতিমধ্যেই নাগরিক সমাজ, আদিবাসী সংগঠনসমূহ ও সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। সার্বিক বিবেচনায় সরকারকে ইপিজেড অন্যত্র স্থাপন কর পুনঃসিদ্ধান্ত নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা বাজার সংলগ্ন সাঁওতালদের মালিকানাধীন ১৮৪২ একর জমি ১৯৫৪-৫৫ সালে সরকার অধিগ্রহন করে। ১৯৬২ সালে এক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনকে উল্লেখিত জমি হস্তান্তর করে। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, এ জমিতে আখ চাষ ছাড়া অন্য কিছু করা যাবে না। শর্ত লংঘিত হলে এসব জমি পূর্বতন মালিকদের কাছে ফেরত দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.