আজ বিজয়া দশমী: দেবী দুর্গার কৈলাসে ফেরার দিন

আজ বিজয়া। দুর্গোৎসবের শেষ দিন।

পুরাণে মহিষাসুর-বধ সংক্রান্ত কাহিনিতে বলা হয়েছে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পরে দশম দিনে তার বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেন দেবী। সেই কারণেই ‘বিজয়া দশমী’ নাম। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে দেবী কৈলাস পাড়ি দেন বলেও ‘বিজয়া দশমী’ নাম।

করোনা মহামারির দিনে অনেকটা অনাড়ম্বর আয়োজনে শোভাযাত্রা ব্যতিরেকেই দুর্গতিনাশিনী দেবীর কৈলাসে ফেরার দিনে বিদায়ের সুরে, বিসর্জনের বাজনায়, অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় দেবীকে বিদায় জানালো ভক্তেরা।

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেলা দেড়টায় বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটের বীণাস্মৃতি স্নানঘাটে বনানী জাকের পার্টির হিন্দু ফ্রণ্ট পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর যে শোভাযাত্রা হবে না, তা আগেই জানানো হয়েছিল।

ঢাকা নদীবন্দরে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম-পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, প্রতিমা বিসর্জন যাতে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, বিআইডব্লিউটি থেকে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।।

বিআইডব্লিটিএ-এর ডুবুরি দল ছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে বুড়িগঙ্গার তীরে রাখা হয়েছে জরুরি প্রয়োজনে মাঠে নামার জন্য।

ঢাকায় ওয়াইজঘাট ছাড়াও বসিলায় তুরাগে এবং সবুজবাগ এলাকার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দুপুরের পরপরই বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ঘাটের পথে রওনা হন ভক্তরা। শঙ্খ আর উলুধ্বনির সঙ্গে চলে খোল-করতাল-ঢাক-ঢোলের সনাতনি বাদ্য।

প্রতিমা ঘাটে নেওয়ার পর ভক্তরা শেষবারের মতো ধূপধুনো নিয়ে আরতি করেন। শেষে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে নৌকায় তুলে বিসর্জন দেওয়া হয়।

বিসর্জন শেষে মন্দিরে শান্তির জল নিয়ে আসা হয়; সন্ধ্যায় মণ্ডপে করা হয় আশীর্বাদ।

এবার সপ্তমী শুক্রবার হওয়ায় হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী দুর্গা এবার এসেছিলেন দোলায় চেপে। আর সোমবার দশমীতে দেবালয়ে ফিরলেন হাতির পিঠে চড়ে।

দেবী যখন দোলায় আগমন করে তখন মহামারী, ভূমিকম্প, যুদ্ধ, মন্বন্তর, খরার প্রভাবে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু তো ঘটাবেই, আবার সেই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতিও হবে।

আর হাতিতে চড়ে দেবী বিদায়ের ফলে পৃথিবীতে জলের সমতা বজায় থাকে এবং শস্য ফলন ভালো হয় ৷ সুখ সমৄদ্ধিতে পরিপূর্ণ হয় মর্ত্যভূমি।

দুর্গা পূজার অন্ত চিহ্নিত হয় বিজয়া দশমীর মাধ্যমে। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এই দিনেই পিতৃ-আবাস ছেড়ে দেবী পাড়ি দেন স্বামীগৃহ কৈলাসের দিকে।

তাই বলে অন্ত মানে শেষ নয়। বিদায় মানে যাওয়া নয়। বাংলা সংস্কৃতিতে যাওয়ার কথা বলা হয় না। বলা হয় ‘আবার এসো’। বিসর্জনের বাজনায় আবাহনের সুরকে মিশিয়ে নেয় বাঙালিরা। আগামীর অপেক্ষায় থাকে। বলে- ‘আসছে বছর আবার এসো মা’।

এক বছর পর নতুন শরতে আবার দেবী আসবেন ‘পিতৃগৃহ’ এই ধরণীতে। দুঃখ-দুর্দশা-বিপদ-আঘাত অতিক্রম করেও আনন্দের সন্ধানে। তিমিরবিনাশী হয়ে। আলোর দিশারী হয়ে। এমনটাই মনে করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।