আকিজ কারখানায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আকিজ বিড়ি কারখানায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে পাঁচজন শ্রমিক।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদে আকিজ বিড়ি কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এরপর থেকে কিছুক্ষণ পরপরই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া অব্যাহত আছে বলে জানা যায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতের নাম শিপুল ইসলাম বলে জানা গেছে। তিনি হোসেনাবাদ গইড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কারখানায় প্রবেশের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বেশ কিছু শ্রমিক ঢোকার চেষ্টা করে। কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কারখানা ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে শ্রমিকদের সেখান থেকে জোর পূর্বক সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে শ্রমিকরা।

পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

তবে পরে কারখানার সমস্ত শ্রমিক কাজ বন্ধ করে হোসেনাবাদ বাজারে কুষ্টিয়া-প্রাগপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। পরে তাদের সাথে উপজেলার ফিলিপনগর কারখানার শ্রমিকরাও যোগ দেয়।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, পুলিশের ছোড়া গুলিতে শিপুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। তিনি এখনো কারখানার ভেতরেই আছেন। পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

বেলা ১২টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের নির্দেশে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর লাঠিপেটা করে এবং গুলি ছোড়ে। তাঁরা অবিলম্বে তাঁর অপসারণ দাবি করেছেন। ঘটনার পর কুষ্টিয়া–দৌলতপুর-মহিষকুণ্ডি আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। গাছের গুঁড়ি দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দেন। সড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে তাঁরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কারখানার আরেক ব্যবস্থাপক রাসুল উদ্দীনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে ফোনের লাইন কেটে দেন। এ জন্য তাঁরও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহাদত হোসেন বলেন, তাঁরা আত্মরক্ষার্থে তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। সড়ক অবরোধকারী শ্রমিকদের দুপুর ১২টায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা জানা নেই।