অভিন্ন টিউশন ফি ও গ্রেডিং পদ্ধতির দাবিতে মানববন্ধন

দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন টিউশন ফি নীতিমালা ও অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি তামজীদ হায়দারের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি শাওন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক রায় মনীষী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রী শেখর নন্দী, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসান ওয়ালী, সাংগঠনিক সম্পাদক রেশমী সাবা, সাবেক
দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মাসুম প্রমুখ।

মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে দিনকে দিন পণ্যে পরিণত কর চলেছে। শিক্ষার বাণিজ্যিকরণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হাত ধরে নতুন মাত্রা পেয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিনের পর দিন নানানভাবে টিউশন ফি বৃদ্ধি করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বর্ধিত টাকা আদায় করে নিচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা আজ বাজারের পেঁয়াজ-রসুনের মত পরিণত হয়েছে। পেঁয়াজ- রসুনের দামের মতোই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র তারতম্য লক্ষ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাজারের পেঁয়াজের মতোই দিনের পর দিন নানান বাহানায় ফি’র নামে প্রতিনিয়ত টিউশন ফি বৃদ্ধি করে চলেছে। অপরদিকে যেহেতু রাষ্ট্রীয় মৌলিক অধিকারের অন্যতম শিক্ষা, সবার জন্য নিশ্চিত করতে পারছে না। একপ্রকার বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্ত মাত্রায় টিউশন ফি দিয়ে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছে। আবার অতিরিক্ত মাত্রার টিউশন ফি’র জন্য গরিব-মেহনতি-শ্রমিক-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা উচ্চ শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সবার জন্য বিনামূল্য শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনসহ ৮২’র মজিদ খান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে দাবি আদায় করেছে। সে আন্দোলনে শহীদও হয়েছিলেন জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দিপালী, রাউফুন বসুনিয়া। এই সরকার সেই শহীদের রক্তের সাথে দিনের পর দিন প্রতারণা উচ্চ শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ করেই চলেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড হওয়ার কথা ছিল একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিশ্রুতির দিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাগামহীম টিউশন ফি আদায় করে চলেছে। আবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভালো-মন্দ বিচার করা হচ্ছে গ্রেডিং পদ্ধতি দিয়ে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরানব্বইয়ে গ্রেড ‘এ’/‘এ + ’ আবার কোনোটাতে আশিতে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা চাকুরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অনেকেই চাকুরিতে আবেদন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অভিন্ন টিউশন ফি নীতিমালা ও অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ অভিন্ন টিউশন ফি ও অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.