অবিলম্বে এনজিও’র কিস্তি আদায় বন্ধ করার দাবি

করোনা-মহামারির চলমান মহা সংকটকালীন সময়ে এনজিওসহ সব ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় অবিলম্বে বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

সোমবার (৮ জুন) অনলাইনে অনুষ্ঠিত সিপিবির ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স টিমে’র এক সভায় এ দাবি জানানো হয়।

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় অংশ নেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, রফিকুজ্জামান লায়েক, মিহির ঘোষ, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক আহসান হাবিব লাবলু, কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. ফজলুর রহমান।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, চলমান করোনা-মহামারিতে গভীর সংকটে পড়েছে শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত মানুষ। রুটি-রুজির সীমাহীন সংকটে পড়ে, খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। এসব মানুষ ক্ষুদ্রঋণের জালে আটকে পড়ে আছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে, অনেক এনজিও দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায়ে বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমান অসহায় পরিস্থিতিতে এটা শুধু অমানবিকই নয়, অন্যায্যও বটে। এনজিওরা বুঝিয়ে দিচ্ছে, মানুষ মরলেও তাদের শোষণ থেকে মানুষের মুক্তি নেই! এ অবস্থা চলতে পারে না।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ৩০ জুন পর্যন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ না রাখলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে সরকার ‘কাগুজে হুংকার’ দিয়েই তার দায়িত্ব শেষ করেছে। কিন্তু কিস্তি আদায় বন্ধ করতে সরকারের কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেই। করোনা আর ক্ষুধার যন্ত্রণায় মানুষ এমনিতেই চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে কিস্তির যন্ত্রণা মেনে নেয়া যায় না। কিস্তির যন্ত্রণা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে। ৩০ জুন পর্যন্ত নয়, করোনা-পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণের সব ধরনের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে হবে। কিস্তি আদায় বন্ধে সরকারকে কার্যকর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতার সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের একের পর এক ভুল পদক্ষেপ করোনা-সংকটকে তীব্র ও দীর্ঘায়িত করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের গাইডলাইন, পরামর্শ, মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার যে খামখেয়ালিপনা করছে, তাতে পরিস্থিতির দ্রুতই অবনতি ঘটছে। সরকারের দায়িত্বহীনতা, অদূরদর্শিতা, ব্যর্থতা, সমন্বয়হীনতা, স্ববিরোধিতার খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে।