‘অন্যের হয়ে’ জেল খাটা মিনুর দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ

বিনা অপরাধে ‘অন্যের হয়ে’ তিন বছর জেল খাটা ‘মিনু আক্তার’ কারামুক্তির মাত্র তের দিনের মাথায় ‘ট্রাকচাপায়’ পড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ষোলই জুন আদালতের নির্দেশে মিনু আক্তারের মুক্তি হয়। আর আটাশে জুন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

কিন্তু তার এই মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি নিছকই সড়ক দুর্ঘটনা কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহত নারীর পরিবারের সদস্য ও তার পক্ষের আইনজীবীরা।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে মিনুর পরিবারের পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ- এর বরাতে বলা হয়, মাত্র ১৩ দিন আগে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। এতো দিন তো ভালই ছিলেন। হঠাৎ এমন কী হলো যে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন?

এদিকে পুলিশ বলছে, মিনু আক্তার সড়ক দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবেই মারা গেছেন। তার শরীরে দুর্ঘটনা ছাড়া অন্য কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের বায়োজিদ বোস্তামী থানার এসআই খোরশেদ আলম জানান, গত ২৮শে জুন রাতের পেট্রোলে ছিলেন একই থানার আরেক এসআই মোহাম্মদ নূরনবী। তিনি প্রায় রাত সাড়ে চার টার দিকে খবর পান যে, ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছেন।

তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর লাশ দেখতে পান। পরে তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন এসআই খোরশেদ আলম।

পরে তদন্তের এক পর্যায়ে তারা জানতে পারেন যে, তার নাম মিনু আক্তার, যিনি একটি মামলায় আসামী না হয়েও তিন বছর জেল খেটেছেন।

নিহত মিনুর ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন তার ভাই।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে এক গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যার মামলায় বিনা দোষে তিন বছর কারাভোগ করেছিলেন মিনু আক্তার। এর পর চলতি বছর বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে তা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়।

২০০৬ সালে এক গার্মেন্টসকর্মীকে হত্যার ঘটনায় ২০১৭ সালে কুলসুমী নামে এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

পরে ওই মামলায় মিনু আক্তারকে থানায় আত্মসমর্পণ দেখানো হয়। এতে তিন বছর জেলও খেটেছেন তিনি।

এ ঘটনা জানতে পেরে আদালতে ঘটনাটি গত ২২শে মার্চ উত্থাপন করেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.