অনলাইন ক্লাস: ৪দফা দাবিতে মোহাম্মদপুরে ছাত্র ইউনিয়নের সমাবেশ

করোনাকালে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফ করতে হবে, অনলাইন পাঠদানের ক্ষেত্রে সকল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, শিক্ষার্থীদের শ্রেণী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক শর্তারোপ করা যাবে না এবং শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন নিশ্চিত করতে সরকারি প্রনোদনার দাবিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সমাবেশ করেছে
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

মোহাম্মদপুর-আদাবর থানা সংসদের উদ্দ্যেগে রোববার (১৯ জুলাই) বিকাল ৪ টায় টাউনহল চত্বরে এই সমাবেশ ও পরবর্তীতে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্র ইউনিয়ন মোহাম্মদপুর-আদাবর থানা সংসদের সভাপতি আসিফ জামানের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আলমাস তাহমিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা সংসদের সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী, ঢাকা মহানগর সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রিতম ফকির এবং ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি জহর লাল রায়।

সমাবেশে ছাত্র নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারীতে শ্রমজীবী-নিম্নআয়ের-মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ রয়েছে চরম বিপাকে। গার্মেন্টস শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করছে, ত্রাণ না পেয়ে আর অনাহারে দিন কাটাতে না পেরে বিক্ষোভ করছে সাধারণ মানুষ। কৃষক পাচ্ছে না তার উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মুল্য। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি চাকুরী হারাচ্ছে কিংবা বেতন কমে যাচ্ছে যার ফলে বিপাকে পড়েছ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এই মুহূর্তে মরার উপর খাড়ার ঘায়ের ন্যায় শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষা ও টিউশন ফি পরিশোধের কথা বলছে যা চূড়ান্ত পর্যায়ে অমানবিকতার পরিচয় দেয়।

তারা বলেন, বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো অনলাইনে ক্লাসের কথা বলছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানি গুলো যে মূল্যের বিনিময়ে তথাকথিত সেবা প্রদান করছে তা অতিনগন্য। সেই সাথে ইন্টারনেটের গতি ও নানাবিধ সংকটের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে ঠিক মতো অংশগ্রহণ করতে পারেন না। যখন পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্হা বিধস্ত হওয়ার পথে তখন দৈনিক কমপক্ষে ১০০ টাকা খরচ করে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার বিষয়টি আমাদের বিবেকে নাড়া দেয়। আর এমতাবস্থায় সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এহেন সিদ্ধান্ত কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তারা আরও বলেন, এই দূর্যোকালীন সময়ে শিক্ষক কর্মচারীর বেতন কাটা যাবে না। প্রয়োজনে প্রনোদণা দিয়ে বেতন কর্তন করার পায়তারা বন্ধ করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ৪ দফা দাবি মেনে নিতে সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি দাবি জানান।

অবিলম্বে দাবি মেনে না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।