অধ্যক্ষ ও শিক্ষক লাঞ্ছনা-হেনস্তায় সিপিবির তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ

সর্বত্র সম্প্রীতি রক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান

নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশের উপস্থিতিতে লাঞ্ছনা, অপমান এবং ধর্ম অবমাননার মিথ্যে অভিযোগ তুলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স ২৬ জুন, ২০২২ এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা জানতে পারলাম নড়াইলের মির্জাপুর কলেজের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে যান। এ সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় অধ্যক্ষ পুলিশকে ঘটনাটি জানান এবং সুরাহা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু একটি মহল এই ঘটনাকে পুঁজি করে শিক্ষার্থীকে রক্ষার মিথ্যা অভিযোগ এনে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ায়। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে কলেজে হামলা চালিয়ে তিন হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষকের মোটর সাইকেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় স্বপন কুমার বিশ্বাসের পাশাপাশি বাংলা বিভাগের শিক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষকেও নির্মমভাবে আহত করে। পরবর্তীতে শতাধিক পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ওই অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরায়। যার ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনা শুধু ওই শিক্ষকের জন্য নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্য একটি লজ্জাজনক ঘটনা।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে একজন অধ্যক্ষের সাথে এহেন লাঞ্ছনা ও অপমানের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, আমরা গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি কলেজের একটি স্বার্থান্বেষী চক্র শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরাতে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ায় এবং এমন নিন্দনীয় ঘটনার জন্ম দেয়। এই ঘটনার পেছনে ওই স্বার্থান্বেষী চক্রের নিয়োগ বাণিজ্যসহ অন্যান্য স্বার্থ জড়িত বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই সময়েই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক সঞ্জয় সরকার এবং উন্মেষ রায়ের মৌলবাদবিরোধী পোস্টকে কথিত ধর্ম অবমাননা বলে অভিযোগ তুলে হেনস্তা করা হচ্ছে। সেখানেও স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক মদদ দিয়ে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী রাজনীতি, সংগঠনের তোষণ এবং এই ধরনের ঘটনার বিচারহীনতার সংস্কৃতিই বারবার এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। মৌলবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা ব্যবস্থায় সাম্প্রদায়িকীকরণ করেছে; যার ফলে সমাজে সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির বিস্তার ঘটে চলেছে যা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার বিপরীত।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শিক্ষকদের হেনস্তার সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি এবং শিক্ষকদের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের ও স্বপদে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সাথে সকল প্রকৃত প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িক এবং ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তির আস্ফালন রুখে দাঁড়ানো ও ওই অঞ্চলসহ দেশের সর্বত্র বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.